মঙ্গলবার , 16 জুলাই 2019
ব্রেকিং

ফরাসী নাগরিকত্ব আবেদন করবেন যেভাবে

 

nationalite_francaise_vdmjফ্রান্সে বর্তমানে বৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। এদের মধ্যে আবার একটি বড় অংশ ফ্রান্সের চলমান আইন অনুযায়ী ফরাসী নাগরিকত্বের আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আমাদের অসংখ্য পাঠকের অনুরুধে এ প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হল।
নাগরিকত্ব আবেদনের যোগ্যতা -নাগরিকত্ব লাভের নানা যোগ্যতার মধ্যে বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে এমন সম্ভাব্য কয়েকটি যোগ্যতার অন্যতম হল, চলমান আইন অনুযায়ী যারা ন্যুনতম পাঁচ বছর ধরে বৈধতা নিয়ে ফ্রান্সে বসবাস করছেন তারা চাইলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে সুবিধা হল, আমাদের একটি আমাদের একটি বড় অংশ ফ্রান্সে রেফ্যুজি অধিকার নিয়ে বসবাস করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ সময় সীমা প্রযোজ্য নয়। তারা চাইলে পাঁচ বছরের আগেই আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া কেউ যদি ফরাসী নাগরিকত্ব লাভের পর বিয়ে করেন তাহলে তার স্ত্রী বা স্বামী বিবাহ সূত্রে ন্যাশনালিটি আবেদন করতে পারবেন।

১) প্রযোনীয় ডকুমেন্ট – ফ্রান্সে বসবাসকারী মাত্রই জানেন, এখানে যে কোন দুটি প্রেফেকচুরের আইন বা যেকোনো বিষয়ে আবেদন প্রকৃয়া সমান নাও হতে পারে। ফলে প্রেফেকচুর ভেদে আবেদনের স্বপক্ষে জমা দেয়া কাগজ পত্রও ভিন্ন হতে পারে। এখানে বাংলাদেশী অধ্যুষিত “সেইন সেন্ট ডেনিস” বিভাগের ববিনি ও তার অধীন সো প্রেফেকচুরগুলোকে উদাহরণ হিসাবে নিয়ে আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের উল্লেখ করা হল:
২) ফ্রান্স ভাষা দক্ষতার সনদ:২০০৯ সাল থেকে ফ্রান্স নাগরিকত্ব আবেদনকারীকে অবশ্যই ফরাসী ভাষায় ন্যুনতম দক্ষতা B 1(ওরাল) প্রমাণ করা বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে।
৩) আবেদন পত্র- বর্তমানে এ আবেদন ফরম সহজেই প্রেফেকচুরের ওয়েব সাইট থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব।
৪) আপনি পূর্বে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে থাকলে মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্তের মুল কপি জমা দিতে হবে।
আপনার সম্প্রতি তোলা ছবি
৫) ৫৫ ইউরো (বেশীও হতে পারে) ষ্টাম্প ফিস্কাল যা ট্রেসর পোবলিক বা তাবাক থেকে কিনে নিতে পারেন।
৬) আপনার রেসিডেন্স কার্ডের ফটোকপি যা অবশ্যই আপনি যে প্রেফেকচুর থেকে নাগরিকত্ব আবেদন করছেন সেখান থেকে সর্বরাহকৃত হতে হবে।
৭) আপনার পাসপোর্ট বা ভ্রমন ডকুমেন্টের ফটো কপি (সবগুলো ভিসা লাগানো পাতাসহ)
৮) আপনার জন্ম সনদ।
৯) ইমিগ্রান্ট হলে মা-বাবার জন্ম সনদ ও বিবাহ সনদ বা কাবিন নামা। তবে রেফিউজিদের ক্ষেত্রে তা লাগবে না।
১০) আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রীর রেসিডেন্স কার্ডের ফটোকপি।
১১) আবেদনকারী বিবাহিত হলে তার বিবাহ সনদ। একই ভাবে ডিভোর্সী হলে তার সনদ পত্র, এবং স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে তার মৃত্যু সনদ।
১২) আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী একসাথে আবেদন না করলে তার কারন উল্লেখ পূর্বক একটি চিঠি জমা দিতে হবে।
১৩) আবেদনকারীর অনুর্ধ আঠার বছরের সন্তানের জন্ম সনদ জমা দিতে হবে।

১৪) কাজ সংক্রান্ত কাগজ পত্র: ফরাসী নাগরিকত্ব লাভে ফুল টাইম কাজকে একটি অলিখিত পূর্ব শর্ত বলা যায়। এক্ষেত্রে CDI (Contrat à durée indéterminée বা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তি) চুক্তি ভুক্ত কাজ সবচেয়ে উপযোগী। কাজ সংক্রান্ত কাগজের মধ্যে আবেদনকারী ইতিমধ্যে যতগুলো প্রতিষ্টানে কাজ করেছেন তার সবগুলো প্রতিষ্টান থেকে প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে আসতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে সাধারণত মালিকের দেয়া attestation de travail ই যথেষ্ট। তবে চাইলে সর্বশেষ তিনটি বেতনের রশিদ জমা দেয়া যায়।
ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে তার প্রতিষ্ঠানের Kbis জমা দিতে হবে।

১৫) আয়কর সনদ: সর্বশেষ তিন বছরের আয়কর (Impôt sur le revenu) হিসাব জমা দিতে হবে।
১৬) পে ২৩৭(Bordereau P237) ট্রেসার পাবলিক থেকে আপনার নামে রাষ্ট্রের কোন দেনা নেই এমন সার্টিফেকেট আনতে হবে। যদি কোন দেনা থাকে অবশ্যই তা পরিশোধ করে নেয়া ভাল।
১৭) আপনার ঠিকানা বা যেখানে বসবাস করেন তার প্রমানাধী। আপনার নিজের নামে ঘর হলে সর্বশেষ তিনমাসের ভাড়া রশিদ, তিন মাসের কম সময়ের বিদ্যুৎ বিলের রশিদ জমা দিতে হবে। অন্য কারো ঠিকানা ব্যবহার করলে তার প্রত্যয়ন পত্র এবং বিদ্যুৎ বিলের কপি।
মোটা দাগে এগুলোই প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র। মনে রাখবেন একখানে যে কাগজ পত্রের লিষ্ট দেয়া হল, এগুলোই সব নাও হতে পারে। প্রেফেকচুর বা ব্যাক্তি ভেদে ডকুমেন্ট কম বা বেশী হতে পারে। এখানে কেবল একটি নমুনা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। আপনি এই সবগুলো ডকুমেন্টের অধিকারী হলে প্রেফেকচুর থেকে রন্দেভো নিয়ে আপনার আবেদন জমা দিতে পারেন। কোন কোন প্রেফেকচুর বিশেষত সেইন সেন্ট ডেনিশ এলাকায় জমা দেয়ার দিনই ইন্টারভিউ নিয়ে নেয়। এবং এ দিন থেকে ন্যুনতম মাসের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়। অবশ্য এ সময় সীমাও কম বেশী হয়ে থাকতে পারে।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.