শনিবার , 15 ডিসেম্বর 2018
ব্রেকিং

ঘুরে এলাম ইবনে বতুতার দেশ মরক্কো

মোহাম্মদ মখলিছুর রহমান, লন্ডন।morokko

উত্তর আফ্রিকান মুসলিম দেশ মরক্কো, যার দক্ষিনে  সাহারা মরুভূমি, উত্তরে মেডিটারিয়ান সমুদ্র ও পুর্বে অালজেরিয়া, পশ্চিমে  আটলান্টিক মহাসাগর। আফ্রিকান একমাত্র দেশ যার অাছে দূইটি সাগরের সৈকত, আটলান্টিক ও মেডিটারিয়ান সাগরের। দেশটি আফ্রিকার মধ্যে পঞ্চম ধনি দেশ।

অায়াতনে বাংলাদেশের ৩ গুন হলে ও জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে তিন কোটি। আটলান্টিক মহাসাগর ঘেঁষা এই দেশটি দেখতে খুবই সুন্দর। ইংলেন্ডের মত রাজতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র। পার্লামেন্টে দুইটি কক্ষ্, হাউস ওফ কাউন্সিলর ও হাউস ওফ রিপ্রেজেন্টেটিব।রাজাই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারি বর্তমান রাজার নাম মোহাম্মাদ ।

রাবাত মরক্কোর রাজধানি হলে ও কাসাব্লাঙ্কা সবচেয়ে বড় শহর। আন্যান্য শহর গুলোর মধ্যে আন্যতম হল, তানগির,আডাগির,  ও মারাক্কেশ।
সব শহরে পর্যটকদের অানাগোনা থাকলেও সবচেয়ে অাকর্ষনিয় হল মারাক্কেশ।

মরক্কোনরা মারাক্কেশ শহরটিকে সাজিয়েছে পর্যটকদের জন্য। পুরো শহরের ভবন গুলো একই রংগের লাল। প্রশস্ত রাস্তা, এবং রাস্তার দুইধারে কমলালেবুর মত দেখতে সিট্রাস যুলে আছে গাছে। সবচেয়ে অাকর্ষনিয় হল ঘোড়ার গাড়ি, ও জামা অাল ফানা স্কয়ার। এই স্কয়ারে সাপুড়িদের বাশি,হকারদের হাকডাক খুবই উপভোগ্য।  পাশে অাছে ১২ শতকের তৈরি “”কুতুবিয়া ” মসজিদ।  ৭৭ মিটার লম্বা মিনারা দেখতে খুবই অাকর্ষনিয়।

মরক্কোর বেশিরভাগ মানুষ হানাফি মাজহাবের অনুসারি  হলেও মারাক্কেশে মালিকি মাজহাবের অনেক লোক অাছে যার জন্য যোহরের অাযান দূই বার দিয়ে দূই সময়ে জামাত পড়া হয়। শুক্রবারে নামাজের আগে একসাথে তিনবার আজান দেউয়া হয়। অাজান মসজিদের ভিতর থেকে না দিয়ে মিনার থকে দেওয়া হয়। অামাদের মত খুতবার অাগে আজান দেওয়া হয়না। ঈমাম সাহেবরা মাথা পর্যন্ত ঢাকা ট্রেডিশনাল ড্রেস পরে ইমামতি করেন।

৭৮৯ সালে মুসলমানরা অাসে মরক্কোতে অর্থাৎ হজরত অালি রা: এর খেলাফতের ১৩০ বছর পর, হজরত হাসান রা: এর নাতি ইদ্রিছ ইবনে আব্দুল্লা  মরক্কোতে আসেন এবং শাসন শুরু করেন যার জন্য  মরক্কো মুসলমানদের  অধিনে চলে আসে। মরক্কানদের ভাষা অারবি ও
মরক্কোর অন্য অফিশিয়াল ভাষা হল বার্বারীদের ভাষা তামাজিত।বার্বারা হল মরক্কোর অাদি জাতি। অাফ্রিকার অন্য কয়েকটি দেশে ও এই বার্বারা বাস করে থাকে।

১৯১২ সালে ফরাসিরা এসে মরক্কো দখল করে নেয়। ১৯৫৬ সালে মরক্কোনরা স্বাধিনতা লাভ করলেও উপনিবেশিক  ছুয়া এখন ও রয়ে গেছে। সবকিছুতেই ফরাসি ভাষার আধিপত্য দেখা যায়।রাস্তাঘাট, অফিস আদালতে এমন কি  রেস্তোরার মেনু পর্যন্ত ফরাসি ভাষায় লিখা।  এয়ারপোর্টে মসজিদের দরজায় ফরাসি ভাষায় সাইন। জানিনা কাকে খুশি করার জন্য মরক্কোনরা ফরাসি ভাষা এত ব্যবহার করতেছে।

মারাক্কেশের অর্থনিতি মুলত পর্যটকদের কেন্দ্রকরে করে গড়ে উটেছে। হাজার হাজার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিং সেন্টার, ও টেক্সির খদ্দের মুলত পর্যটকরা। শপিং সেন্টার, অথবা টেক্সি ওয়ালারা একটাকার ভাড়াতে পাচ টাকা চেয়ে থাকে। আমাদের ঢাকার বঙ্গ বাজার, অথবা  সিলেটের হকার মার্কেটের মত বিশাল মার্কেটগুলাতে দশগুন বেশি দাম চাওয়া হয়। অাপনাকে অবশ্যই দরকষাকষি করতে হবে।

মরক্কোর খাবার খুবই প্রসিদ্ধ ও মজাদার। কুছকুছ, ও তাজিন তাদের মেইন ফুড। গ্রিল খাবার ও তাদের প্রিয়। ভাত ও আমাদের মত মসলাযুক্ত তরকারী ছাড়া ও  আপনি খাবার উপভোগ্ করবেন।

মুসলিম দেশ হওয়ার জন্য লন্ডনের মত হালাল হারামের প্রশ্ন নেই। সবকিছু ই হালাল। লন্ডন থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার বিমান পথ ও সস্তা হলিডে পেকেজ পাওয়া যায়। সারা বছর আবহাওয়া ও খুবই চমৎকার। অামার মতে ইউরোপীয় মুসলমানদের জন্য মরক্কো একটি নিরাপদ হলিডে গন্তব্য স্থান।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.