বৃহস্পতিবার , 27 জুন 2019
ব্রেকিং

এক টাকা-দুই টাকা দিয়ে চকলেট পাওয়া যায় নাকি?

Figure-32b

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ দেশে প্রবল মূদ্রাস্ফীতির কারণে সর্বনিম্ন মুদ্রা হিসেবে তখন শুধু ৫ টাকা রেখে শিগগিরই তুলে নেয়া হবে ১ টাকা ও ২ টাকার মুদ্রা(কয়েন ও নোট)। রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এমনটাই জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভ্যাট আইন সংশোধন নিয়ে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বাজার থেকে ১ ও ২ টাকার নোট তুলে নেয়া হবে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে মন্তব্য করেছিলেন। তবে ২৪ ঘন্টার মাথায় তীব্র সমালোচনার মুখে তিনি সে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
সোমবার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাজারে ১ ও ২ টাকার নোট থাকবে।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সর্বনিম্ন মুদ্রা হবে ৫ টাকা। বাজারে প্রচলিত এক টাকা ও দুই টাকার মুদ্রা ও কাগুজে টাকার প্রচলন থাকবে না। প্রচলিত এই মুদ্রা বাজার থেকে উঠিয়ে নিতে প্রায় তিনশ কোটি টাকা লাগবে। এই মুদ্রা ও কাগুজে টাকা উঠিয়ে নেওয়ার পর পাঁচ টাকার নতুন নোট চালু করা হবে। বর্তমানে পাঁচ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত সবই ব্যাংক নোট। আর এক ও দুই টাকা সরকারি নোট। অর্থমন্ত্রী জানান, পুরোনো এক ও দুই টাকার নোটগুলো বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করা হবে। এগুলো ধ্বংস করতে ৩০০ কোটি টাকার মতো ব্যয় হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সরকারের কী লাভ হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুদ্রাস্ফীতির কথা অস্বীকার করে জানান, সরকারের চেয়ে বেশি লাভ হবে মানুষের। অপ্রয়োজনীয় (ইউজলেস) টাকা নিয়ে মানুষকে ঘুরতে হয়। এক টাকা দিয়ে যে চকলেট পাওয়া যায়, তাহলে কি সেটি পাওয়া যাবে না; এমন প্রশ্নের উত্তর দেন পাল্টা প্রশ্নে ‘এক টাকা-দুই টাকা দিয়ে চকলেট পাওয়া যায় নাকি?’
অর্থ মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তার বোল পাল্টান।

অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সংশোধন ঘটলেও দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন ও নিজ অভিজ্ঞতা আর একটু বাড়ানোর উদ্যোগ তিনি নেবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। কেননা, দেশে ৮০ শতাংশেরও বেশী মানুষ কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে সে ব্যাপারে তার কোনো জ্ঞান নেই বলেই প্রমানিত হয়েছে তার এ বক্তব্যের মাধ্যমে। হলমার্ক, ডেস্টিনী ও সোনালী ব্যাংক এর হাজার হাজার কোটি টাকা আপাতদৃষ্টে লুটে নিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করে থাকলেও যাদের ঘাম-ঝরা অর্থ গচ্চা গিয়েছে তাদের পরিশ্রমের মূল্য বর্তমান অর্থমন্ত্রীর কথায় অবহেলিত বিষয় বলে প্রমানিত হয়েছে।

এছাড়াও, ৬ টাকা মূল্যের কিছু কিনলে ১০ টাকা, ১৭ টাকার পণ্যের জন্য ২০ টাকা, ১১ টাকার পণ্যের জন্য ১৫ টাকা; এভাবে বিল পরিশোধ করা যায় কিনা তা না ভেবেই ১৬ কোটি মানুষের দৈনিক গড়ে ৫ টি করে মোট ৮০ কোটি লেনদেন এর জন্য একটি সাধারণ সূত্র তিনি কি করে তৈরী করেছিলেন তা জানা যাচ্ছে না।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.