বুধবার , 20 জুন 2018
ব্রেকিং

রম্য রচনা – দেশের চাঁদ দেখা কমিটি

শাফি হকঃ

২৯সে রমজানের রাত ১২টা বরাবরের মত এবারও চাঁদ দেখা কমিটির অতি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলছে ! পুরো ঘর এয়ারকন্ডিসন্ড থাকার পরেও সবাই ঘেঁমে অস্থির !
এই বৈঠকেই নির্ধারিত হয় দেশের রোজা কয়টা হবে ২৯টা না ৩০ টা !
পুরো থম থমে পরিবেশ, সুগন্ধি জর্দার ঘ্রাণে পুরো ঘরের বাতাস ভারী হয়ে আছে !
লম্বা টেবিলওয়ালা ঘরে একটি মাত্র জিনিস নড়ছে – পানের পিচকি ফেলার চিরঞ্চি ! যার যখন লাগছে সে টেনে নিয়ে পানের পিচকি ফেলছে !
সুপারির ক্ষুদ্র কনা নাসিকারন্ধ্রে ঢুকার ফলে অনেকের মৃদু কাঁশি হচ্ছে , দু একজন বিষমও খাচ্ছে ! এছাড়া আর কোন শব্দ নেই ঘরের মধ্যে !
সবাই অপেক্ষা করছে একটি ফোন কলের জন্য, দেশের কথাও চাঁদ দেখা গিয়েছে কিনা ?!
আক্কেল পুরের মতলব আলী একটু আগে টুইট করেছে, সে যেন কিছু একটা দেখতে পেয়েছে আকাশে !
হটাৎ, একজন মেম্বারের ফোন বেঁজে উঠলো, মতলব আলী কনফার্ম করলো সে চাঁদ দেখেছে !
কিন্তু, সাথে সাথেই আর একজন মেম্বার বললো -” কোন মতলব আলী , কানা মতলব আলী, ওর চোখে ছানি পরা, ও কেমনে চাঁদ দেখবে “?!
ফোন পাওয়া মেম্বার উত্তর দিল – “সে তার মোটা ভারী চশমা দিয়ে দেখেছে” !
সাথে সাথেই একটু মুরুব্বি গোছের আর এক মেম্বার বললো – “তাইলে হবে না, চাঁদ দেখতে হবে খালি চোখে” !
ব্যাস, হট্টগোল, হৈচৈ শুরু হয়েগেল !
এই দেখে বড় হুজুরের সবাইকে এক ধকম দিলেন , কয়েক দিন ধরেই তিনি তার ব্লাডারের চাপ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারছেন না ! তিনি আর এখানে বেশি বসতে চান না , টয়লেটে যেতে হবে আর একবার।
তিনি বললেন – “দেখেন এক কানা মতলব আলীর চাঁদ দেখার উপর ভরসা করা যাচ্ছে না !
তার চেয়েও বড় কথা , আমার বাসার কাজের বুয়ার পায়ের স্যান্ডল কেনা হয় নাই , আজ রাতে আর সময় নাই , আগামী কাল ইনশাল্লাহ আমি স্যান্ডল কিনতে পারবো এবং পরের দিন ঈদ হবে”।
ব্যাস, বড় হুজুরের উপর আর কোন কথা নাই, উনি সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছেন , তাই সভা এখানেই শেষ হয়ে সবাই বাড়ি ফিরে গেল, ঈদ পরশু দিন !
একমাত্র ছোট হুজুরকে একটু চিন্তিত হয়ে বৈঠিক শেষ করতে দেখা গেল !
বড় হুজুরে অনেক রাত করে বাড়ি ফিরে কেবল ঘুমিয়েছেন , তখন ছোট হুজুরের ফোন পেলেন !
ছোট হুজুর বড় হুজুরকে বললেন – হুজুর , আমার সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে হুজুর , আপনি বাঁচান আমাকে !
বড় হুজুর: কেন, এত রাতে কি হলো ?
ছোট হুজুর : হুজুর আমার পরিবার ভিজায়া ফেলেছে !
বড় হুজুর : আরে এতো রাতে তোমার বউ কি ভিজায়া ফেলেছে ?!
ছোট হুজুর : হুজুর, আমার বউ আগামী কাল ঈদ মনে করে ফ্রিজের শক্ত মুরগী ভিজায়া ফেলেছে ! এমন কি তার সেমাই রান্নাও শেষ !
এখন যদি কাল ঈদ না হয় , তবে এই মুরগী আর ফ্রিজে উঠানো যাবে না !
পরিবার বলেছে , সে আমাকে ত্যাগ করে চলে যাবে !
সে চলে গেলে এই বয়সে আমি এতিম হয়ে যাবো, আশেপাশে এমন কেউ নেই যে তাকে নিকা করা যাবে !
শেষ বয়সে আমাকে হোমে যাওয়া ছাড়া গতি নাই হুজুর !
আমার শালির জন্য কেনা নতুন স্যান্ডল আমি আপনার কাজের বুয়ার জন্য নামাজের পরই দিয়ে আসবো !
আপনি বাঁচান , আপনি মোর বাপ/মা দাদা !
বড় হুজুর : আচ্ছা , ঠিক আছে বাঁজান।
ছোট হুজুর , তাইলে বাজামু হুজুর ?!
বড় হুজুর : হুম , বাঁজান !
ছোট হুজুর : তাইলে বাঁজায়া দিলাম হুজুর, স্যালাম !
একটু পরে রেডিও টিভিতে সেহেরির ফরজের আজানের পরিবর্তে বাজতে লাগলো – রমজানের এই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ ! ( আজকে ঈদ উদযাপনের ঘোষণা হয়ে গেল ! )
সবাইকে ঈদ মোবারাক !
(দুই বছর আগের পোস্ট কিন্তু স্টিল ভ্যালিড ! 😀 )

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.