মঙ্গলবার , 23 এপ্রিল 2019
ব্রেকিং

বাড়ছে প্রবাসীদের মৃতের সংখ্যা, কিন্তু কেন?

ইতালির নাপোলী থেকে আবু তালিব হোসাইন মিঠু::

আমরা প্রবাসী,,,
দেশের মানুষের সপ্ন
পুরণ করতে ভালবাসি

আমরা প্রবাসী,,,,
নিজের জীবন যৌবন শেষ হলেও
মুখে থাকি হাসি

উপরের লেখাগুলো যেন সব প্রবাসী দের স্লোগান। প্রবাসী রা অক্সিজেন এর মত নিজে না জলে অন্যকে জালিয়ে সুখ পায়, নিজে কষ্ট করে পরিবারের সদস্য দের মুখে হাসি থাকলেই তৃপ্তি পায়, দেশের এক-তৃতীয়াংশ বাজেটের ঘাটতি পূরন হয় যেই প্রবাসি দের রেমিটেন্স দিয়ে সেই প্রবাসী দের দিন-দিন বেড়েই চলেছে মৃত্যুর হার।

সরকারি হিসাব মতে বাংলাদেশের তিনটি বিমান বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দশ টি লাশ দেশে যাচছে। অথচ একটা সময় এর সংখ্যা ছিলো খুবই যৎসামান্য। কি এমন কারন যার কারনে প্রবাসে বেড়েই চলেছে প্রবাসি দের মৃত্যু হার এ প্রসংগে জানতে চাইলে ইতালির শহর নাপলীর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক জয়নাল আবেদিন বলেন অনিরাপদ কর্মসংস্থান, আর্থিক-ঋন, মানষিক চাপ ও খাদ্য অভ্যাসের জন্যই অধিকাংশ প্রবাসি দের মৃত্যু হয়।

সরকারী তথ্যমতে ২০০৫ সালে মৃতের সংখ্যা ছিলো ৬৯১ জন যা ২০০৯ সালে কয়েকগুন বেড়ে হয় ১৩৬৪ জন। আর গত এক যুগে দেশের তিনটি বিমান বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে লাশ এসেছে ৩১ হাজার ৪৬৭ টি (সূত্রঃ ওয়েজ আর্নার্স বোর্ড) এগুলো শুধু সরকারী হিসাব প্রাপ্ত লাশ আর অসংখ্যা লাশ বাংলাদেশে নেয়া সম্ভব হয় না অথবা বিভিন্ন দেশের বর্ডার বা সাগর পথে কত লোক যে মারা যাচছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

প্রবাসে যে সব শ্রমিক মারা যায় তার অধিকাংশ ই হ্রদরোগ, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ, ও সড়ক দুর্ঘটনা হলেও বিশেষজ্ঞ রা মনে করেন ঋনের বোঝা,বিরুপ কর্ম- পরিবেশ ও মানষিক চাপের জন্যই মৃত্যু’র বাড়ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি রা মনে করেন বিদেশ যাওয়ার আগে যথাযথ কাজের প্রশিক্ষণ আর অভিবাসন নীতিমালা অনুসারে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও কর্মী দের কাজের শর্ত-সাপেক্ষ জেনে নেওয়া ভালো।

এ বিষয়ে প্রবাসি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহম্মদ বলেন, সিকিউরিটির বিষয়গুলো কাগজে লেখা থাকে কর্মী রা এটা দেখেই কিন্তু কাগজে সাক্ষর করেন তবে তিনি আশ্বস্ত করেন সংশ্লিষ্ট দেশের কাজের পরিবেশ জেনেই কর্মী দের চাকুরীর ব্যবস্থা করা হবে। কিছু সরকারি কর্মকর্তা এ বিষয়ে জোরালে নজরদারি রাখলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা অসাধু দালাল চক্র কিংবা লোভী ট্রাভেল এজেনসির সাথে হাত মিলিয়ে অসহায় যুবকদের ইউরোপ-আমেরিকার লোভ দেখিয়ে মৃত্যু কুপে নিক্ষেপ করেন। একটা সময় এই প্রবাসীরাই পরিবারের সদস্য দের প্রতিষ্ঠিত, বোনের বিয়ে কিঙবা ভাইয়ের শিক্ষার খরচ জোগাতেই প্রবাসিরা অতিরিক্ত মানষিক চাপে ভোগেন। আর এটাই প্রবাসিদের মৃত্যুর প্রধান কারন।
তাই দেশের মেধাবী তরুন দের বলবো কোনো দালালের পাতানো ফাদে পা না দিয়ে দেশেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ও অন্যকে সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমেই যেমন দেশের বেকারত্ব দুর হয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে অন্যদিকে কমবে প্রবাসি দের মৃত্যু হার।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.