রবিবার , 22 অক্টোবর 2017
ব্রেকিং

মিয়ানমারের বর্বরতা বিশ্বে তুলে ধরা হবে: রোহিঙ্গা বস্তিতে তুর্কী ফার্স্ট লেডি

 

Coxs-Pic7-7-9-17-copy-654x525 asd.JPG

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলা, নিমর্ম নির্যাতন ও হত্যাকা-ের কথা শুনলেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমনি এরদোগান। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছেন। ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে এক বৈঠকে বসেন। সেখানে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনদের চরম নিপীড়ন, নির্যাতনের কথা বর্ণনা করলে তিনি ধৈর্য্য সহকারে তাদের কথা শুনেন এবং পরে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
মিয়ানমারের মংডুর নাইচং পাড়া এলাকার আবুল বশর (৫০) বলেন, রাখাইন রাজ্যে মুসলিমদের চরম নির্যাতন, অত্যাচার ও নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে এপারে পালিয়ে এসে রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছি। মংডুর জাম্বুনিয়া এলাকার মোহাম্মদ হোছন (৪৫) বলেন, মুসলিম নিধনের লক্ষ্যে রাখাইন রাজ্যে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি সেনাবাহিনী দিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। যে কারণে আমরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। এমনকি কেউ ছেলে সন্তান, কেউ পিতা-মাতাকে রেখে এক কাপড়ে নাফনদী ও স্থলপথে হেঁটে ও বোটযোগে এদেশে পালিয়ে এসেছি। ফার্স্ট লেডি পরে এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে রেজিস্ট্রার্ড ও আনরেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নেন ও কুশল বিনিময় করেন। ওই সময় রোহিঙ্গারা তুরস্কের ফার্স্ট লেডিকে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমনি এরদোগান বলেন, রোহিঙ্গারাও মানুষ, তারা মুসলিম। তাদের ওপর মিয়ানমার সরকার সেনাবাহিনী ও রাখাইনদের দিয়ে যে বর্বরোচিত হামলা, ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা বিশ্বের মুসলিমদের এক হয়ে প্রতিহত করা উচিত বলে মনে করেন। তিনি ক্যাম্পে দু’ঘণ্টা অবস্থান করার পর বেলা ৩টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেন।
এসময় ফার্স্টলেডির সাথে ছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট ক্যাভোফোগল, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজুল টুটুল, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাইলাউ মারমা, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের, আইওএম’র কান্ট্রি ডিরেক্টর পেপি ছিদ্দিকী ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিগণ।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীরা উগ্রপন্থী দমনের নামে রাখাইন রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘরে আগুন, অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম, হত্যা, গণধর্ষণ করায় রোহিঙ্গারা বাড়িঘর ফেলে এপারে চলে আসে। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা ১০টি বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে।

print

মন্তব্য করুন