রবিবার , 22 অক্টোবর 2017
ব্রেকিং

তুরষ্কের উদ্বেগ মানবতা, বাংলাদেশের উদ্বেগ ভারত ও মিয়ানমারের স্বার্থ!

pm-emini.jpg

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ আসলে অনেকটা ভারতের নীতিকেই অনুসরণ করে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুরস্কের ফার্স্ট লেডিকে বলেছেন, ‘আমাদের জন্য বড় ধরনের বোঝা’ হয়ে দেখা দিলেও সম্পূর্ণ মানবিক কারণে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিচ্ছে। তবে শরণার্থীদের ছদ্মাবরণে কোনো সন্ত্রাসী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।”

সন্ত্রাসের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে না বললেও প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোন দেশের বিরুদ্ধে কোন বিদ্রোহী অথবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে আমাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেবো না।”

এদিকে কথার দ্বারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি’র নীতি অনুসরনের ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার বালির নুসা দুয়া অবকাশযাপন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড পার্লামেন্টারি ফোরামের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলনের শেষ দিনে আনা প্রস্তাবে এ অস্বীকৃতি জানিয়েছে নয়া দিল্লি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে তুরস্কের সফররত ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোগান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু’র সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্মীয় এবং আঞ্চলিক পরিচয় নেই।’

এমিনি এরদোগান মায়ানমারের শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক সাড়াদানের প্রশংসা করেন এবং এই ইস্যুতে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির জন্য ইস্তাম্বুলের উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

তিনি বলেন, ‘তুরস্ক এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত তৈরির চেষ্টা করছে। কারণ এই সংকট নিরসনে সারা বিশ্বের দায়িত্ব রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, তুরস্ক এই ইস্যুটি কাজাখস্তানে অনুষ্ঠেয় ১৩তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনেও উপস্থাপন করবে।

তুরস্কের ফার্স্ট লেডি বলেন, তার দেশ বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর আশ্রয় দেয়ার সমস্যা অনুধাবন করতে পারে।

এমিনি এরদোগান আজ বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার শরণার্থী পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে বলেন, এই শরণার্থীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা জনগণের সমর্থন নিয়ে সফলভাবে মোকাবেলার জন্য তুর্কি সরকারের প্রশংসা করে বলেন, ‘জনগণের ক্ষমতাই সর্বোচ্চ।’

এদিকে, এক হাজার বছর ধরে আরাকানে বসবাস করে আসা রোহিঙ্গাদের অগণিত বার তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এসেছে বর্মীরা। সর্বশেষ গণহত্যাগুলোই বলে স্বাধীন আরাকান এখন মানবতার দাবী। কিন্তু তাদের কে সন্ত্রাসী বা দেশোদ্রোহী বলে দেখানোর যে প্রয়াস দেখা যাচ্ছে তা পাকিস্তানীরা স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশীদের প্রতি দেখিয়েছিল ৭১ সালে।

print

মন্তব্য করুন