মঙ্গলবার , 18 ডিসেম্বর 2018
ব্রেকিং

প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা ও ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতিক্রিয়া

আগামী ১২ই ডিসেম্বর ২০১৭ “ONE PLANET SUMMIT” এ যোগদান দিতে আসা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৭ প্যারিসে একটি নাগরিক সংবর্ধনা দেয়ার কথা রয়েছে l

আমরা ফ্রান্স প্রবাসীরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, এই দেশটি বিশ্বের ৫ টি পরাশক্তির মধ্যে একটি এবং ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ইউরোপের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে আর এ কারণে আর্থ -সামাজিক উন্নয়ন ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত একাধিক প্রতিষ্ঠান এর দপ্তগুলোর অবস্থান আমাদের এই ফ্রান্সে l

এই সুবাধে বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনসমূহ এখানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, সম্মেলনে যোগদান করতে প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গের আগমন ঘটে, আমাদের এই ১৭ কোটি জনগণের সরকার প্রধানগণ ও একাধিকবার ফ্রান্সে এসেছেন এবং আরো ও আসবেন l

কথা হচ্ছে এখানে আমাদের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে একটি চিরাচরিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যখনি কোন এম পি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী আসেন তখন দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন একটি ভাব পরিলক্ষিত হয় যেন আগন্তুক এই ব্যক্তিগুলো কেবলই দলীয় সম্পদ উনাদেরকে যত্ন-আত্নী করার সমস্ত অধিকারঠুকু দলের, এখানে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণ অবাঞ্ছনীয় l

সাধারণত একজন জনপ্রধিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর তখন তিনি সকল নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করেন আর সেই অর্থে দল মত নির্বিশেষে সকল নাগরিক একইভাবে সেবাগ্রহণ করার অধিকার রাখেন, বিশেষ করে প্রবাসে তার প্রয়োজনীয়তা আরো অধিক l

এইরখম একটি নাগরিক সংবর্ধনায় পরিবার পরিজন ছেড়ে সুদূর প্রবাসে বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকরা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের মনোভাব ব্যক্ত করার সুযোগ পেতেন তাহলে হয়তোবা পরিজনের কাছে থেকে দূরে থাকার ব্যথাটা একটু লঘু হতো,অথচ সাধারণ প্রবাসীরা প্রায় ধরেই নিয়েছে এখনকার জনপ্রতিনিধিরা আর যাই হোক নিরপেক্ষ জনগণের জন্য নো তাই তা নিয়ে আর কারো মাঝে যেন আর কোনরখমের উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করে না

তাছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের এসব একপেশে আচরণের মাধ্যমে তিনিরা নিজের অজান্তেই প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করতেছেন কারণ এইরকম একটি নাগরিক সংবর্ধনায় সকল পেশা শ্রেণীর নাগরিকের উপস্থিতি না রেখে কেবলই দলীয় সামান্য কিছু কর্মী নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করে ১৭ কোটি জনগণের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রটিকে অত্যন্ত সক্ষীর্ণ করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী এখন আর দলীয় কোন উপাদান নয়, তিনি আপামর জনসাধারণের নেতা l

এর আগে বাংলাদেশে যখন প্রধানমন্ত্রীকে গত ২৯ মে ও ৫ অক্টোবর ২০১৫ সালে পৃথক দুটি অনুষ্টানে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয় সেই অনুষ্ঠানগুলো যথাক্রমে ২৯ মে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে চেয়ারম্যান করে ২০২ সদস্যের জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল । কমিটিতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা ছাড়াও ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ফরাসউদ্দিন, আতিউর রহমান, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কবি নির্মলেন্দু গুণ, মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বীর উত্তমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও বুদ্ধিজীবীরা সদস্য হিসেবে ছিলেন। ৫ অক্টবরের অনুষ্টানে আয়জনে ছিলেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সিটি কর্পোরেশন l

ফ্রান্সের সাধারণ প্রবাসীদের দাবী, এরখম একটি জাতীয় বিষয় যেখানে জড়িত থাকে সেখানে সকল নাগরিকের উপস্থিতিতে সবদলের ও নিরপেক্ষ সম্মানীয় প্রবাসীদের সমন্বয়ে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটি গঠন করে সেই কমিটির ব্যানারে যদি এরখম একটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় তাতে করে একদিকে যেমন নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে অন্যদিকে প্রজাতন্ত্রের যে সকল ব্যক্তিবর্গকে এই সম্মান দেয়া হচ্ছে তিনিরা ও শুধু দলীয় কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী ছাড়া সকল শ্রেণীর মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হবার সুযোগ পাবেন l

সাধারণ ফ্রান্স প্রবাসীরা মনে করেন, এরখম করে দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত প্রতিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে দলীয় পরিচয়কে উর্ধে রেখে সম্মিলিতভাবে সবাকে উপস্থিত হয়ে নিজেদেরকে একজন গর্বিত নাগরিক হিসেবে নিজেদের ন্যায্য অধিকারগুলো আদায় করে নিতে হবে আর এর মধ্যে দিয়ে জাতীয় যেসকল কার্যক্রমকে দলীয়করণের অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে l

আপামর জনগণের আমরণ সংগ্রামে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীন সার্বভৌম প্রানপ্রিয় দেশের একজন গর্বিত নাগরিক হিসেবে আসুন সকলে মিলে এই সোনার বাংলাদেশের প্রতিটি উৎসবে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রাখি ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাই, আমাদের রক্তঝরা শ্রমের মূল্যায়ন একদিন আসবেই l এম আজাদ, প্যারিস, ৮ই অক্টোবর ২০১৭,

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.