শনিবার , 15 ডিসেম্বর 2018
ব্রেকিং

আত্মত্যাগী সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন এর যুক্তরাজ্য গমন

পর্তুগালে যে কয়জন গণমাধ্যম কর্মী কর্মরত তাদের মধ্যে জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন , যার হাত ধরে পর্তুগালের বাংলাদেশ কমুনিটির কার্জকর্ম বিশ্বদরবারে ফুটে উঠে তার বিভিন্ন লিখনির মধ্যে দিয়ে।পর্তুগালে সংবাদকর্মীদের গুরু বলে তিনি বেশ পরিচিত।সেলিম উদ্দিন অল ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেস ক্লাব এর সাংগঠনিক সম্পাদক ,তিনি বাংলা টিভি পর্তুগালের প্রতিনিধি। পর্তুগালে বিভিন্ন ধরণের কমিউনিটি অনুষ্ঠান পরিচালনা হয়েছে তার মেধা গুনে।তিনি পর্তুগালে প্রথম শিশু কিশোরদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা প্রবর্তন করেন সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন শিশু কিশোরদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছেন এবারের শিশু দিবসে।জীবনটা সুখের মতো করে গোছাতে পারতেন অনায়াসে। কিন্তু তিনি সেদিকে যাননি। নিজের সুখের জন্য কিছুই তিনি করেননি। সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠল। নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের দুঃখ, যন্ত্রণা, স্বপ্ন ভাঙা—এগুলো তাঁকে ভাবাত। আর এই ভাবনা থেকে সেসময় সবচেয়ে দুঃসাহসিক যে পেশা ছিল সাংবাদিকতা, তিনি তা বেছে নিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন মুক্তির কথা, গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা, আত্মদানের কথা, নির্যাতনের কথা। তাঁর কলমে উঠে এসেছে গণমানুষ স্বাধীনতার কথা। তিনি স্বপ্ন দেখতেন দুচোখ ভোরে, একদিন লেখার স্বাধীনতা পাবে মানুষ। গণমানুষ তাদের স্বাধীনতার ফিরে পাবে। ফিরে পাবে নিজের সংস্কৃতি। বিলুপ্ত হবে শোষক শ্রেণি। আর প্রতিষ্ঠা পাবে গণমানুষের মৌলিক অধিকার। তিনি একজন রাজনীতিমনস্কসাংবাদিক ছিলেন। কিন্তু তাঁর কোনো রাজনৈতিক উচ্চভিলাষ ছিল না। তিনি জানতেন গণতন্ত্রের অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে মুক্ত গণমাধ্যম। আর যার পথে রয়েছে সংবাদপত্র। গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হিসেবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা তিনি বলেছেন। তাঁর আজীবন সাধনা ছিল দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করা। আর সেজন্য তাঁর চারণভূমি ছিল সংবাদপত্র। তাঁর লেখালেখি বিভিন্ন সময় রক্ত চক্ষুর রোষানলে পড়ে। লিসবনের নির্মিত প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।তাই বলতে বাধা নেই, সেলিম উদ্দিন ছিলেন দূরদর্শী বিজ্ঞ গুরুতুল্য ব্যক্তিত্ব, আজকের প্রজন্ম যাকে অনুসরণ করলে বরঞ্চ অধিক উপকৃত হবেন।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.