শুক্রবার , 19 জুলাই 2019
ব্রেকিং

পোল্যান্ডে বাংলাদেশী চিকিৎসক খলিলুল কাইয়ুম

নবকণ্ঠ ডেস্ক –

বাংলাদেশের এককোটির বেশী মানুষ জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে দেশ ছেড়েছে। এদের অনেকেই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটা বড় অংশ নিয়োগকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কর্মনৈপুন্য দিয়ে অনেকেই ভাল পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

যে সব বাংলাদেশী বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছেন তাদের অনেকেই পেশাজীবির কাতারে নাম লিখিয়েছেন। ইউরোপের অনেক দেশে এবং উত্তর আমেরিকা বা অষ্ট্রেলিয়ায় অনেক পেশাদার বাংলাদেশী খুজে পাওয়া যায়। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবি এসব অনেক পদেই এখন বাংলাদেশী খুজে পাওয়া যাবে সহজেই।

পুর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে এরকম একজন বাংলাদেশী পেশাজীবি রয়েছেন। খলিলুল কাউয়ুম নামের এ বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত পলিশ নাগরিক সে দেশের একটি সরকারী হাসপাতালে শল্যচিকিৎসা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কসমেটিক সার্জারীতে পারঙ্গম এ চিকিৎক একইসঙ্গে এন্ডাস্কেপি’র ও বিশেষজ্ঞ।

রাজধানী ঢাকার অদূরে ঢালকানগরে ২০ জানুয়ারী ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহন করেন খলিলুল কাউয়ুম। সাত ভাই চার বোনের সংসারে নবম সন্তান তিনি। বাবা মো: আব্দুল কাউয়ুম প্রকাশনা ব্যবসায়ী ছিলেন। ঢাকার প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থা কাউয়ুম বুক হাউসের স্বত্বাধিকারী ছিলেন উনার বাবা।

১৯৮৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাশ করার পর তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক পোল্যান্ডে বৃত্তি নিয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার জন্য আসেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগে স্নাতক (সম্মান) শ্রেনীতেও ভর্তি পয়েছিলেন তিনি। পোল্যান্ডের বিখ্যাত বিদগসচেজ মেডিকেল স্কুল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী নেন তিনি। এরপর সরকারী জাকুরীতে প্রবেশ করেন। বিদগল মেডিকেল কলেজে সার্জারী বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশের কাইয়ুম।

ব্যক্তিগত জীবনে তিন পুত্র সন্তানের জনক ডা. কাইয়ুম বিয়ে করেন সহাপাঠী ইসাবেলাকে। তিনিও পেশায় চিকিৎসক। নিউরো ফিজিওলোজি বিষয়ের অধ্যাপক তিনি। ১৯৯৬ সালে উনারা বিববাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বাংলাদেশের কাইয়ুম পোল্যান্ডের মাটিতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎক হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। বিদেশের মাটিতে থাকলে নিজের স্বপ্ন বাংলাদেশে একটি হাসপাতাল নির্মানের। যেখানে খুব কম অর্থব্যয়ে গরীব রোগীরা ইউরোপের উচ্চমানের চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে পোল্যান্ডের চিকিৎসা খরচ তুলনামুলক কম হওয়ায় এ দেশে বাংলাদেশের রোগীদের বিশেষত ক্যান্সার ও হার্টের রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার বিষয়ে কাজ করছেন তিনি। ডা. কাইয়ুম এ প্রসঙ্গে বলেন, সিঙ্গাপুর বা ভারতে যে খরচে বাংলাদেশী ক্যান্সার ও হার্টের রোগীরা চিকিৎসা নিতে যান তার চেয়ে অনেক কম খরচে পোল্যান্ডে এসব রোগের চিকিৎসা নেয়া সম্ভব। এ বিষয়ে পোল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন তিনি। প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখলে প্রিয় জন্মভুমির অনেক রোগী স্বল্পব্যয়ে ইউরোপের উন্নত চিকিৎসা নিতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।

পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি ডা. কাইয়ুম ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশীদের অধিকার আদায়ের সংগঠন ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশী এসেসিয়েশন (ইপিবিএ) এর সহ সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন। সামাজিক এ সংগঠনটির মাধ্যমে ইউরোপের বিভিণ্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের বিভিণ্ন সুবিধা এবং অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করছে। এরকম একটি বৃহৎ সামাজিক সংগঠনের সহ সভাপতি হিসেবে কাজ করতে পারা গৌরবজনক বলে মনে করেন তিনি।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.