শুক্রবার , 19 অক্টোবর 2018
ব্রেকিং

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতি আহবান ,জাতিসংঘের সামনে টানা ১৫ দিনের মৌন প্রতিবাদ সমাপ্ত

জেনেভা ,সুইজারল্যান্ড

১ মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে বসবাস করছে, এদের ৬০% শিশু। শিশু এবং মহিলাদের অমানবিক জীবন যাত্রাকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সুইজারল্যান্ড প্রবাসী রিমি গৌরি চরণ। নিজে ৭ মাসের গর্ববতী মা হিসাবেই তার বার বার রোহিঙ্গা মহিলাদের কথা মনে পড়ছে । রোহিঙ্গাদের জীবনব্যবস্থা দেখে যে কেউ উদ্বিগ্ন হবেন এটাই স্বাভাবিক ।

বিশ্বশক্তির চাপপ্রয়োগের পর ও রোহিঙ্গাদের তাদের পূর্ণ অধিকার দিয়ে ফিরিয়ে নিচ্ছেনা মায়ানমার সরকার। মূলত রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম, রাউজানের এম, পি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরামর্শে ও পরিকল্পনা অনুযায়ী টানা ১৫দিন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসঙ্ঘ সদর দপ্তরের সামনে মৌন প্রতিবাদ করেছেন রিমি গৌরি চরণ ও তার স্বামী সসীম।

জাতিসংঘে কর্মরত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এসময় তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেন এবং এ আন্দোলনে সমগ্র পৃথিবীকে জেগে উঠার আহ্বান জানান।

রিমি বলেন আমি দাঁড়িয়েছে শুধুমাত্র পৃথিবীকে দেখানোর জন্য রোহিঙ্গা অন্তঃস্বত্বা মহিলারা তাদের নিজ দেশ ছেড়ে এসে বাংলাদেশে কেমন দিনযাপন করছে। বাংলাদেশ সরকার যদি আশ্রয় না দিতেন তাহলে কি অবস্থা হতো এসকল মহিলাদের, এগুলো কি বিশ্বমানবতা দেখেনা। রিমি মৌন প্রতিবাদের সময় অসুস্থ হয়ে পড়লেও তিনি হাল ছাড়েন নি। ১৫ দিন প্রতিবাদ করেন একটানা।জাতিসংঘের উর্ধতন এক কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে অবশেষে ১৬তম দিনে মৌন প্রতিবাদ শেষ করেন তারা ।

রিমি বলেন রোহিঙ্গারা নির্যাতিত তাদের পাশে শুধু বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে থাকলে হবেনা ,সমগ্র বিশ্বকে এগিয়ে আসা দরকার। মায়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ না করলে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দিবেনা।

উল্লেখ্য রোহিঙ্গাদের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল তাতে নারী-পরুষ নির্বিশেষে সহিংস এই ঘটনার শিকার হয়। নারীদেরবেলায় এই নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় অনেকখানি। শুধু ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে উচ্ছেদ কিংবা দেশছাড়া করা নয়, শারীরিকভাবে পাশবিক নির্যাতনের কোপানলেও পড়তে হয় অসংখ্য নারীকে। যে কোন লোমহর্ষক ঘটনার আনুষঙ্গিক পর্ব হিসেবে যুক্ত হয়ে যায় শারীরিকভাবে দুর্বল নারীদের ওপর অকথ্য নিপীড়নের মতো অমানুষিক ঘটনা। সেখানে কিশোরী থেকে শুরু করে তরুণী, মধ্যবয়স্ক নারীরা কেউই বাদ যায়নি। পৃথিবীব্যাপী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আর নিন্দার ঝড় ওঠে। তারপরও এই নৃশংস তা-বলীলার কোন সুরাহা তো হয়ইনি, এর মাত্রাও কমেনি।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.