মঙ্গলবার , 18 ডিসেম্বর 2018
ব্রেকিং

ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করুন : ইসিকে ঐক্যফ্রন্ট

দলীয় আনুগত্য ও ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

শনিবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এ আহ্বান জানান।

ড.কামালের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দেশ ও সরকারের ওপর তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে। নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ঐক্যফ্রন্টের সব দলই এ ব্যাপারে সচেতন। যাচাই বাছাইয়ের পর দেশের সব আসনেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একক প্রার্থী নির্ধারিত হবে।’

ড.কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্যে মান্না আরও বলেন, ‘আমি দেশের সমস্ত জনগণ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ করবো সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমার আহ্বান তারা যেন নিরপেক্ষভাবে, স্বাধীনভাবে এবং ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের দায়িত্ব পালন করেন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট রিটানিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ সব কর্মকর্তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান আপনারা দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। যদি জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বই হুমকির মুখে পড়বে।’

তিনি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে যেসব আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে, তা তুলে ধরতে হবে গণমাধ্যমকে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের না করার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রতিদিন পাইকারি হারে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেই গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণ হলো ক্ষমতার মালিক, ১৬ কোটি মানুষের কাছে এ তথ্য তুলে ধরুন। তাহলে জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক, তা অনুধাবন করতে পারবে। জনগণ সক্রিয়ভাবে দেশ পরিচালনা করবে।

যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় দেখেছি, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে সব কিছুই সম্ভব। নির্বাচনের সময় ফটো বা ভিডিও করা যাবে না বলে নির্বাচন কমিশন আইন করেছে, সেটা বাতিল করা না হলে আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবিধানে যে সাম্যের রাজনীতির কথা বলা হয়েছে, ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। সংবিধানেই লেখা আছে সেই রাজনীতির কথা। এখানে নতুন ধারার কোনো রাজনীতি চালুর দরকার নেই। সংবিধান মেনে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা যাবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা জোরালোভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তিনি তা বাতিল করে দিলেন। আদালতের রায়েও বলা আছে, আরো দুই বার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড.কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা:জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো.মুনসুর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান (বীর প্রতিক) প্রমুখ।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.