রবিবার , 19 মে 2019
ব্রেকিং

বাংলাদেশ সহ ১৪টি দেশের অংশগ্রহনে ওয়াশিংটন দূতাবাসে শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সহ মোট ১৪ দেশের অংশগ্রহনে ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় একুশের এই অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তান, কলম্বিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, নেপাল, প্যারাগুয়ে, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পীবৃন্দ নাচ গান সহ তাদের ভাষা ও সাস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরে বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

দূতাবাসের প্রথম সচিব মাহমুদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, মাতৃভাষাসমূহ প্রচারের মাধ্যমে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও বহুভাষিক শিক্ষা প্রচার করা হয়। তিনি বলেন, একে অপরের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা, বোঝা, সহনশীলতা এবং সংলাপের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পৃতি ও সংহতির অনুপ্রেরণা জোগায়।

ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার বিষয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশকে রেজোলিউশনের অগ্রদূত হিসেবে শুধুমাত্র বাংলা ভাষা রক্ষা করার জন্যই নয় বরং বিশে^র অন্যান্য সকল ভাষাকেও রক্ষার বাধ্যবাধকতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দূতাবাস, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ও প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, “শহীদ দিবস” পালনকালে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বলীদানকারী ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে সারা বিশ্বে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষের ভাষা বজায় রাখার এবং সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন দূতাবাসের প্রাঙ্গণে স্থাপিত শহীদ মিনারের বেদীতে রাত বারোটা এক মিনিটে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মী ও পরিবারের সদস্যরাও শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

২১ তারিখ সকালে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন দিবসটির স্মরনে দূতাবাস ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে, মাননীয় রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রীর বার্তা পাঠ করা হয়। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। এছাড়া পুরাতন ঢাকায় মারাত্মক অগ্নিকান্ডে নিহত আহতদের জন্যও দোয়া করা হয়।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.