শুক্রবার , 19 জুলাই 2019
ব্রেকিং

জার্মানিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

বার্লিন, ২৬ মার্চ – 

বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবগাঁথা দিন মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে জার্মানির রাজধানী বার্লিনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ।

সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম রেজাউল করিম। ত্রিপিটক পাঠ করেন সাংবাদিক বিটু বড়ুয়া। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ও চলমান উন্নয়নের উপর নির্মিত ভিডিও দেখানো হয় অনুষ্ঠানে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ এ কে আব্দুল মোমেন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম এর বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ, দূতাবাসের মিনিস্টার (রাজনৈতিক) মোঃ মুরশিদুল হক খান, দূতাবাসের কাউন্সেলর কাজী তুহিন রাসুল এবং দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব মোঃ খালিদ হাসান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান মুহাম্মদ সফিউল আজম।

মহান স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি নেতা মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুল, জাহিদুল ইসলাম পুলক, আবু হানিফ,নাজমুন্নেসা পিয়ারী, মিজানুল হক খান, নূরে আলম সিদ্দিকী, বারবারা দাস গুপ্তা, মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ।   

বক্তাগণ বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। তাই আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করেসুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ নিতে হবে। 

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটেরনামে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গণহত্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। নির্বিচারে হত্যা করা হয় অসংখ্য মানুষকে। ইতিহাসের এই নির্মম জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনার স্মরণে ২৫শে মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণার জন্য আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি হোটেলে বিদেশী অতিথিদের সম্মানে সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ এবং জার্মান ফেডারেল সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ইনা লেপেল বক্তব্য রাখেন। এসময় বাংলাদেশের উন্নয়নে এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নেটস বাংলাদেশ, জ্যলহুবার ফাউন্ডেশন, ফর বাংলাদেশ, জার্মান ডক্টর্স, জার-বান ফাইবারস ও ফর কিডস সেক সহ ছয়টি দাতব্য সংস্থাকে সম্মাননা স্মারক উপহার দেওয়া হয়। স্মারক তুলে দেন রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ এবং তাঁর সহধর্মিনী ডেইজি আহমেদ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের নানা উদ্দীপনামূলক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জার্মানির বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল মুনিম এবং স্বরচিত বাংলা এবং জার্মান কবিতা আবৃত্তি করেন হোসাইন আব্দুল হাই এবং মীর জাবেদা ইয়াসমিন ইমি। নাচ পরিবেশন করেন হামবুর্গ থেকে আগত নৃত্যশিল্পী ফারজানা শওকত শাহরীন। 

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.