রবিবার , 21 জুলাই 2019
ব্রেকিং

সেহরী ও ইফতারের সময় ও ইউরোপের মুসলিম কমিউনিটিতে বিভ্রান্তি

মাওলানা বদরুল ইসলাম বিন হারুন
সাবেক লেকচারার, জালালাবাদ ইউনিভার্সিটি কলেজ ,সিলেট ।

ফ্রান্সে আজ ক্যালেন্ডারে সেহরী ও ইফতারের সময় নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।বিষয়টি গবেষণালব্ধ এবং কিছুটা জটিল।প্রতিবছরই আমাদের কমিউনিটিতে এবিষয়ে দিধা দন্ধ হচ্ছে।বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া চাই।

প্রথমে সেহরীর বিষয়টি পরিষ্কার হোক।সেহরী( سحر)অর্থ অস্পষ্ট।যেমনটি ليلة القدر এ অস্পষ্টতা আছে।
সেহরীর নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা নেই।রাতের শেষ তৃতীয়াংশের যে কোন সময় সেহরী খাওয়ার সময়।

মূল সমস্যা:

ইউরোপে মাল্টিকালার মুসলমানদের বসবাস।এখানে হানাফি, শাফেই, হান্বালি তথা সব মাজহাবের অনুসারী রয়েছেন।বাংলাদেশী মুসলমান এখনো হাজারের কোটায়।আমরা সবাই হানাফি মাজহাবকে ফলো করি।আমরা যেভাবে ঘড়ি ধরে সেহরী পালনে অভ্যস্ত অন্যরা নন।

আধুনিক মুসলিম বিশ্বের মনীষীগন যেমন শায়েখ সালেহ আল উসাইমিন,সালেহ আল মুনাজ্জিদ সহ বিশিষ্ট দশ জন মনীষীর পর্যালোচনা সহ একটি নাতিদীর্ঘ আলোচনার এখানে পেশ করার প্রয়াস যাতে কিছুটা উপকার হলে,সাওয়াবের আশা করি।

السؤال: تقول: في شهر رمضان نحضر السحور قبل الأذان بثلث أو نصف ساعة، ويؤذن ونحن لم نتم السحور، فنأكل وهو يؤذن، بعض الناس قال: الإمساك حين سماع الأذان، والبعض قال: إن أفضل وقت للسحور هو عند الأذان حتى يكون متأخرًا، مع أننا لا نعلم هل الأذان يكون قبل طلوع الفجر بقليل أو مع طلوع الفجر، ما حكم ما فعلنا؟

الجواب: السنة تأخير السحور لآخر الليل، لكن ينبغي أن يقدم قبل الأذان حتى يفرغ المتسحر قبل الأذان، والنبي ﷺ ثبت عنه أنه تسحر في آخر الليل ثم قاموا إلى الصلاة بعد السحور قاموا، سئل أنس عن ذلك: كم كان بين الأذان والسحور؟ قال: قدر خمسين آية.
فالمقصود أن التأخير أفضل، لكن ينتهي قبل الأذان، فإن أكل وهو يؤذن فلا حرج إذا لم يعلموا أن الصبح قد طلع، أما إذا علموا أن الصبح قد طلع كالذي في الصحراء يرى الصبح فإنه لا يأكل إذا رأى الصبح ولو ما أذن، فإن العمدة على الصبح؛ لأن الله قال جل وعلا: وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْر [البقرة:187] يعني: من الصبح، فإذا كان لا يعلم هل الأذان عن الصبح أم لا فله أن يشرب أو يأكل مع الأذان، لكن ترك هذا أحوط وأولى، وإذا تقدم فيفرغ من سحوره قبل الأذان هذا هو الأفضل والأولى احتياطًا للصوم وبعدًا عن الشك، والرسول

ফ্রান্সে মুসলিম ক্যালেন্ডারে সময়ের তারতম্য,
ইফতার ও সেহরির সময় নিয়ে বিতর্ক:

“মুসালমান de ফ্রান্স” এবং “মোসকে দ্য প্যারিস” এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো ফ্রান্স ভৌগোলিক দিক থেকে বিষুব রেখার কত ডিগ্রিতে অবস্থিত? ১২ নাকি ১৮ ডিগ্রি?এজন্য ক্যাল্কুলেশনে পার্থক্য দেখা দিয়েছে ! ইফতারে তেমন কোন পার্থক্য নাই ,পার্থক্য হলো সেহরিতে বা ফজরে! হাদীসঅনুযায়ী ফজর শেষ ওয়াক্তে পড়া সুন্নাত ! আশ পাশের প্রতিবেশী দেশগুলির নামাজের কেলেন্ডার এবং সুন্নাতে রাসূলের বিবেচনায় মুসুলমান দ্য ফ্রান্স এর কেলেন্ডার ফলো করা উত্তম! তারা হাদীসঅনুযায়ী শেষ ওয়াক্তে ফজর পরে এবং ফজরের ৫মিনিট আগে পর্যন্ত সেহরি খায়! আর “মোসকে দে প্যারিস” ৩০ মিনিট আগে সেহরি খাওয়া বন্ধ করে দেয় ! আল্লাহর রাসূল বলেছেন: “তোমরা সহজ করো কঠিন করোনা ,সুসংবাদ দাও বীতশ্রদ্ধ কোরনা” !প্রায় ৪৫০ টি মসজিদ “মুসালমান de ফ্রান্সকে” অনুসরণ করে আবার প্রায় সমপরিমাণ মসজিদ “মোসকে দ্য পারীর” কেলেন্ডার ফলো করে।

আধুনিক মুসলিম বিশ্বের প্রসিদ্ধ কয়েকজন মনীষার বিবেচনায় সেহরী র শেষ সময়:

1-শাইখ সালেহ আল উসাইমিন রঃ-“
و يا الأسحار هم يستغفرون
এই আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলেন- السحر হলো যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে।এই সময়ে সেহরী খাওয়া সর্বোত্তম।
2-শাইখ মোহাম্মদ আততাসানকিতী-সেহরীর উত্তর সময় হলো,তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে খাওয়া শুরু করা আর ফজরের আজান হলে খাওয়া শেষ করা।
3-শাইখ আব্দুল আজিজ আত্তারিকি-
রাতের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে ফজর পর্যন্ত।
4-শাইখ আস-সারাভি বলেন-
“المستغفرون با الأسحار “
উপরোক্ত আয়াতের অবতারণা করে বলেন-যে সময় মানুষ থাকে গভীর ঘুমে।আল্লাহ্ নেমে আসেন আমাদের নিকট আসমানে।আর বান্দাহকে কাছে টানেন।তার অভাব,অনটনের কথা শুনে নিকটাত্মীয় করে নেন।

এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদেরকে খাবারের প্রতি মনোযোগী হলে চলবে না।তাই,আগ পিছ করে সেহরী খেয়ে ফেলাই উত্তম।

5-শাইখ আব্দল্লাহ আল মসলিহ-

রাতের শেষ তিন ভাগকে “নাশিয়া ناشءة “বলা হয়।বর্তমান ঘড়ির যুগে রাতকে তিন ভাগ করা সহজ।যদি মনে করেন আপনার জন্য শেষ রাতে ওঠা সম্ভব নয়।আপনি সেহরী খেয়ে ঘুমিয়ে যেতে পারেন।

6-শাইখ মোহাম্মদ হাসান-

এস্ট্রোলজিস্টদের মধ্যে ও একুরেট টাইম নিয়ে মতভেদ আছে।বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভুল নয়।

তাই সময়ের মাআলা নিয়ে কঠোরতা ঠিক নয়।আপনি ঘুম থেকে উঠে দেখছেন আজান হচ্ছে,এমতাবস্থায় সামনে যা কিছু আছে তাড়াতাড়ি খেয়ে নেন।এটাই আপনার সেহরী খাওয়া হয়ে যাবে।

আপনি খাচ্ছেন,আর এদিকে আজান হচ্ছে, খাবার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।আজানের শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান।

ইউরোপিয়ান ফতোয়া বোর্ড:

এই ফতোয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন বিশ্ব নদ্দিত ইসলামিক মনীষী, শাইখ ইউসুফ আল কারদাবী।30/03/1997 তারিখে ব্রিটেনের লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয়।সারা বিশ্বের সেরা 32 জন ইসলামিক দার্শনিকের সমন্বয়ে এই বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়।আধুনিক জটিল সমসাময়িক বিষয়ের যুগোপযোগী সমাধান, বৈজ্ঞানিক বিশ্লষণ এই ফতোয়া বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

এই ফতোয়া বোর্ডের বাহিরে গিয়ে কিছু দরবারি শাইখ অনেক মাসআলার ভিন্নমত পোষণ করেছেন।ইউরোপের সর্ববৃহত্ মুসলিম অরগানাইজেশন “মুসলমান দো ফ্রান্সে”এর ক্যালেন্ডারের থেকে সময় বিশেষ 30 মিনিট পর্যন্ত ব্যবধান রয়েছে।আর এতে আমাদের অনেক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

পৃথিবীর সর্বত্রই এমন বিভ্রান্তি বিরাজমান।যার কারণে আজ মুসলিম উম্মাহ বহুধাবিভক্ত।

তবে হ্যাঁ।ইসলামের এই নদীর বাঁকে বাঁকে এমন বিভক্তি ছিলো,আছে,থাকবে।মূল ইসলামের গতি তার সঠিক পথেই হাঁটছে।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.