Thursday , 1 October 2020
Breaking

শ্রম অধিকার ও বাংলাদেশ

 

rananআইনুল হক

 

আজ পয়লা মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৭৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগু শহরে পুলিশ কর্তৃক নিহত শ্রমিকদের স্মরণে প্রতিবছর সারাবিশ্বে পালিত হয় মে দিবস। বছরের একটি দিন উৎসর্গ করা হয় শ্রমজীবী মানুষকে। অন্তত একটি দিন শ্রমজীবী মানুষের সম্মানে পালন করা হয়। এ দিনকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয় শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের কথা। বিশ্বমিডিয়া গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা আর শ্রমঅধিকারের কথা। এর ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে মালিক পক্ষের টনক কিছুটা হলেও নড়ে। বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা নেয় নানা পদক্ষেপ শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করতে। কিন্তু বাংলাদেশে কি আদৌ এর প্রতিফলন ঘটছে? আজো বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় প্রতিটি পেশার শ্রমিকরা নিপীড়িত হচ্ছে। আজো শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয় নি। এর ফলে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের উপযুক্ত পাওনা থেকে। এখনো সরকার নিরাপদ কর্মস্থলের নিশ্চয়তা দিতে পারে নি। তাযরিন ফ্যাশন ফ্যাক্টরির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আর রানা প্লাজাধস এরই উদাহরণ। আজো রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকরা ও তাদের পরিবার পায়নি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। আজো শ্রমিকনেতা আমিনুল ইসলাম এর হত্যার সুষ্ঠু বিচার হয় নি। ক্ষমতার দাপটে দোষীরা সবসময়-ই পের পেয়ে যাচ্ছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী কর্তৃক শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন রোধ করছে। আজকাল দলীয় কর্মীদের দিয়ে ও শ্রমিকদের লাঠিপেটা করানো হচ্ছে, স্তব্ধ করা হচ্ছে তাদের আন্দোলন। কর্মক্ষেত্র থেকে বৈষম্য এখনো দূরীভূত হয় নি। আজ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকরা নির্যাতিত হচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে না উপযুক্ত পদক্ষেপ। যাদের ঘাম মিশে আছে বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদেরকে হেনস্থা করা হচ্ছে বিমানবন্দরে। শ্রমজীবী মানুষের ঘামে তিলে তিলে গড়ে উঠা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজারব এর নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। এত কিছুর পরও অনির্বাচিত সরকার মিথ্যাচার করে বলছে দেশের শ্রমিকদের অবস্থা অনেক ভাল। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে শ্রমিকদেরকেই জেগে উঠতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। চালিয়ে যেতে হবে অধিকার আদায়ের আন্দোলন। আর শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের উপর ক্রমাগত চাপ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। যখন শ্রমজীবী মানুষের সকল অধিকার নিশ্চিত হবে কেবল তখনি মে দিবস পালন সার্থক হবে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য যুগে যুগে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মা শান্তি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.