রবিবার , 8 ডিসেম্বর 2019
ব্রেকিং

আপন জুয়েলার্স-পূত্র সহ গ্রেফতার ২ ধর্ষক: বিচার ও সাজা কার্যকর কত বছরে?

বনানীর হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার আসামী আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত ও ব্যবসায়ী রেহনাম রেগনাম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফকে ঢাকায় আনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) হেফাজতে তাদের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনা সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
আজ শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে সাফাত ও সাদমান সাকিফকে সিলেটে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রী আদালতে জবাববন্দি দিয়েছেন। বেলা বারোটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত তারা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন।

বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ করে ওই দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বনানী থানায় দায়ের করা এ মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন- সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, বিল্লাল হোসেন, সাদমান সাকিফ ও আজাদ। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামি সাফাত ও নাঈম ওই দুই তরুণীর বন্ধু। জন্মদিনের পার্টিতে দাওয়াত দিয়ে হোটেলে নেওয়ার পর সাফাত ও নাঈম হোটেলের একটি কক্ষে নিয়ে রাতভর দুই তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তা ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ আনা হয় মামলায়।

মামলার আসামিরা হলো আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে হালিম, ব্যবসায়ী রেহনাম রেগনাম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ এবং সাফাতের দেহরক্ষী ও গাড়িচালক।

যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন সাফাত ও সাদমান


বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সিলেট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্ষণের আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সদর দপ্তরের সমন্বয়ে একাধিক টিম তৈরি করা হয়। এরমধ্যে সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), জেলা পুলিশ এবং ঢাকা থেকে আসা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের টিম সহ একাধিক দল অভিযানে অংশ নেয়। তাদের গ্রেপ্তার করা হয় নগরীর পাঠানটুলার রশিদ ভিলা থেকে।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ঢাকার গোয়েন্দা দল সাফাত ও তার সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য দেয়। এর ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ ও সিলেট জেলা মহানগর পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, রশীদ ভিলার মালিক একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। বাড়িটিতে কেউ থাকে না। এটি দেখভাল করে একজন কেয়ারটেকার। অভিযান চলাকালে তাকে পাওয়া গেলেও আটক করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে বাড়ির মালিকের নামও প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, রশীদ ভিলা হলো সাফাতের চাচার বাড়ি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান জেবান আল মুসা। ধর্ষণ মামলার অন্য আসামিরা সিলেটেই আছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ ব্যাপারে পুলিশ সজাগ আছে।

এদিকে নাঈম আশরাফসহ ধর্ষণ মামলার অন্য আসামিরা যেন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে যেতে না পারে সেজন্য সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সাফাত-সাদমানের ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার শেখ নাজমুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। মামলা তদন্ত করবে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার। তদন্তে আমরা সহযোগিতা করবো।

এদিকে আসামীদ্বয় গ্রেফতার হওয়ার সাথে সাথে দেশজুড়ে মানুষের মাঝে খুশীর পাশাপাশি প্রশ্ন জেগেছে, গ্রেফতারের পর বিষয়টি আবার নতুন ইস্যুর আড়ালে চাপা পড়ে যাবে কিনা? এবং সবশেষে আসামীদের বিচারে কালক্ষেপণ করার মাধ্যমে আসলে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়ে গেল কি না? ইতিপূর্বে অনেক ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে আসামী গ্রেফতারের নজীর থাকলেও বিচারের নজীর তেমন একটা নেই। ঢাবি’র ধর্ষন-সেঞ্চুরী করা মানিক, রমনায় বর্ষবরণে হেনস্তাকারী, গাজীপুরে ধর্ষণের শিকার শিশুর ধর্ষক ও প্রশ্রয় দাতা, দিনাজপুরের ছোট্ট শিশু পুজা দাস কে ব্লেড দিয়ে কেটে ধর্ষণকারী, নারায়নগঞ্জের সাত খুনের আসামী নূর হোসেন; এদের কেউই আজও যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শাস্ত পায় নি, পেলেও তা কার্যকর হয় নি।

print

One comment

  1. আপন জুয়েলার্স বেন করে দিলে খুব ভালো হবে, আর ধর্ষক (১) সাফাত (২) সাদমান (৩) নাঈম আশরাফকে ফাসি দেয়া হোক, যা দেখে অন্যরা ও কেপে উঠে…

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: