বৃহস্পতিবার , 4 জুন 2020
ব্রেকিং

ঈদ-উল ফিতর এবং দেশের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

ঈদ-উল ফিতর এবং দেশের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণ নিম্নে তুলে ধরা হলো –

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম।
এবার এক অবর্ণণীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আপনারা পালন করলেন পবিত্র রমজান। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। বক্তব্যের শুরুতেই আমি সবাইকে জানাচ্ছি ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। যদিও এবারের ঈদে অনেকের ঘরেই থাকছেনা ঈদ উৎসবের আমেজ। মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের হানায় অনেকেই হারিয়েছেন প্রিয়জনকে-এরই ভিতর। নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বহু মানুষ। বহু স্বল্প আয়ের মানুষ চাকুরী হারিয়েছেন। বহু অল্প আয়ের ব্যবসা-বাণ্যিজ্যের ব্যবসায়ীরা হারিয়েছেন তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য। অপরদিকে সক্ষমতাসীন অপশক্তির গুম-খুন-অপহরণ আর জেল-জুলুম অনেক পরিবারকে দিয়েছে নি:স্ব করে। এমন হৃদয় বিদারক পরিবেশের মধ্য দিয়ে কাটছে মানুষের অনিশ্চিত প্রহর। একদিকে করোনা ভাইরাস আতংক অন্যদিকে খাদ্যাভাবে ঘরবন্দী অসংখ্য, অগণিত মানুষের হাহাকার। এরই ভিতর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড় আমপানের আঘাতে জনজীবনে নতুন করে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এমন অমানবিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সময়ের দাবী হলো দলীয়-রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শন। সতর্কতা, সহায়তা, মানবিকতার চেতনায় অসহায় মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। বিশ্বের প্রতিটি দেশ, প্র্রতিটি মানুষ এক কঠিন সময় পার করছে। মরণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিশ্বের দেশে দেশে শত শত কোটি কোটি মানুষ আজ ঘরবন্দি এমনআতঙ্কের পৃথিবী  অতীতে কখনো কেউ দেখেছে এমন  একজনমানুষ হয়তো  বর্তমান পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না  বিগত এক শতকে দুটি বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে সেই যুদ্ধ ছিল দৃশ্যমান শত্রুর বিরুদ্ধে আর এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র

 প্রিয় দেশবাসী
 এক অদৃশ্য শত্রুর মোকাবেলায় প্রতিটি দেশ নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিয়েছে  যে দেশের সরকার যত বেশি জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব গণমুখী এবং দায়িত্বশীল সেই সব দেশের নাগরিকগণ নিজেদেরকে ততবেশি নিরাপদ মনে করেন কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জবাবদিহিমূলক কিনা কিংবা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত এ নিয়ে নাগরিকদের মনে রয়েছে এক বিরাট প্রশ্ন।


 বরং জনগণ দেখেছে  করোনা ভাইরাস আতঙ্কিত মানুষ  এক হাসপাতাল থেকে  আরেক হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে চিকিৎসা না পেয়ে  পথের মধ্যেই ঢলে পড়েছে মৃত্যুর কোলে।
এর আগে গত 24 মার্চ  আমি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলাম। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে আমি স্পষ্ট করে বলেছিলাম, দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশ এবং জনগণের স্বার্থে সবাইকে  যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। এটি সময়ের দাবি।

 প্রিয় দেশবাসী,
 বর্তমানে  দেশের কোটি কোটি পরিবারের দিন কাটছে অধ্যাহার এবং অনাহারে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভীতি উপেক্ষা করে একমুঠো খাবারের দাবিতে অসহায় মানুষ নেমে আসে রাজপথে। বাড়ছে বুভূক্ষ মানুষের হাহাকার, দেশে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতেও সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা মেতেছে ত্রানের চাল চুরির উৎসবে। নানা কৌশলে আতশাৎ করেছে অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দ সরকারী টাকা। সরকারী ভাবে গরিব কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য করা তালিকাতেও চলছে জালিয়াতি। মানুষের এমন ঘোর বিপদ কালেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের চুরি দুর্ণীতি প্রমাণ করে এই দল এবং সরকার এখন সম্পূর্ণভাবে লুটেরা পরিবেষ্ঠিত। ক্ষমতাসীনদের দাবী গত এক দশকে তারা নাকি বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি মডেল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে করোনার করালগ্রাস যখন মানুষকে মানবিক হতে শিখিয়েছে ঠিক সেই সময়টিতে বাংলাদেশে যখন গরিব মানুষের ত্রাণ চুরির কারণে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সংবাদ শিরোনাম হয় তখন নাগরিকদের মনে প্রশ্ন জাগে বাংলাদেশ কাদের কাছে কিসের রোল মডেল। চাল চুরির নাকি গরীবের ত্রাণ চুরির?

প্রিয় দেশবাসী,
একদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতংক আর অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থা অপরদিকে অসংখ্য মানুষের ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর অভাব এমন পরিস্থিতিতে মানুষের  প্রতিটি দিন কাটছে ভয়-ভীতি এবং আতংকে। তাই আপাতত এই সময়ে ক্ষমতাসীনদের অপকৃত্তি, অনাচারের দীর্ঘ ফিরিস্তি তুলে ধরতে চাইনা, তবে লকডাউনের এই দু:সময়টিতে মানুষের যখন অর্থনৈতিক সহায়তা ভিষণ প্রয়োজন তখন ক্ষমতাসীনদের কয়েকটি মেগা লুটপাটের ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়। গত এক দশকে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেল প্রায় ০৯ লক্ষ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড থেকে লোপাট হয়ে গেল ৫শ কোটি টাকারও বেশী। বাংলাদেশের এই মুহুর্তে খেলাপী রিণের পরিমাণ প্রায় ০১ লক্ষ্ কোটি টাকা। সরকারের প্রশ্রয়ে একটি ব্যাংকের মূলধন পর্যন্ত হজম করে ফেলা হয়েছে। শেয়ার বাজারের শত শত কোটি টাকা যারা লুট করেছে তারা সর্ম্পর্ণ ভাবে ধরা ছোয়ার বাহিরে। খোদ সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় লুটেরা দল এভাবে দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার এবং লুটপাট করার সুযোগ না পেলে জনগণকে হয়তো বর্তমানে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাতে হতো না। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় থাকার জন্য দুর্নীতি, ক্ষমতা রাখার জন্য দুর্নীতি, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে দুর্নীতি এভাবে প্রতিটি পদে পদে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকার দৃশ্যত দুর্নীতিকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। প্রতিবাদী জনগণের পিছনে র্যাব, পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে ক্ষমতাসীনরা এতদিন যে কোন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ঠা করতো। কিন্তু র্যাব, পুলিশ দিয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা সম্ভব নয় ফলে বর্তমান জাতীয় সংকটকালে প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের অযোগ্যতা আর ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সারাদেশ অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান এবং ত্রানের চাল ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়ার জন্য আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে আহ্বান জানিয়েছিলাম কিন্তু সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব না দিয়ে ক্ষমতাসীনরা গরিব মানুষের জন্য সরকারী ভাবে বরাদ্দ করা নগদ অর্থ সহায়তার টাকা
এবং ত্রাণের চাল বিতরণের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের হাতে, ফলে গরীব মানুষের জন্য দেয়া ত্রাণের চাল এখন পাওয়া যাচ্ছে আ.লীগের নেতাদের গুদামে, পুকুরে কিংবা খাটের নিচে। ত্রাণ চোর থেকে চাল চোর সে একই চক্র, সেই একই দল, সেই কাহিনী, সেই একই বাহিনী।

প্রিয় দেশবাসী,
প্রতি্টি দেশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বীকৃত কোন মেডিসিন আবিষ্কৃত হয়নি। এই অবস্থায় সব দেশেই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রতিদিন বেশী সংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় এনে করোনা উপসর্গ থাকলে আগে ভাগেই আইশোলেশনে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণকেই অন্যতম সাফল্য হিসেবে মনে করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের চিত্র ঠিক উল্টো। মানুষ নিজ উদ্যোগে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা এবং করোনা চিকিৎসা করাতে গিয়েও নানা বিড়ৎম্বনার শিকার হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বেশী সংখ্যক মানুষকে টেস্ট করলে বেড়ে যাবে সনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একারণে অধিক সংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় আনা হচ্ছেনা। সুতারাং সক্ষমতা না থাকায় অধিকহারে করোনা টেস্ট করানো যাচ্ছে না, নাকি  এর পেছনে সরকারের অন্য কোন কারণ আছে? এটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় উদ্দেগের বিষয়টি হলো- নানা অজুহাতে করোনা টেস্ট না করে কিংবা টেস্ট করতে গড়িমসি করে সরকার হয়তো করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যের সংখ্যা কম লিখে মেকী সাফল্য লাভ করতে চায়। কিন্তু এর পরিণতি হতে পারে হিতে বিপরীত। তাই দেশ এবং জনগণের স্বার্থে আমি এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলতে চাই, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যের সংখ্যা কম লিখে নিজেদের কাগুজে সাফল্য দেখানোর চেয়ে জরুরি করোনা ভাইরাস টেস্ট নিয়ে দেশে বিদেশে বাংলাদেশের ব্শ্বিাস যোগ্যতা অর্জন। কারণ গ্লোবাল ভিলেজে এই সময়ে করোনা টেস্টের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের বিশ্বাস যোগ্যতা হারালে ভবিষ্যত নাগরিকদেরকে অত্যন্ত চরম মূল্য দিতে হতে পারে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশে যেমন ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে আমাদের নাগরিকদের বিদেশে শ্রম বাজারে থাকা না থাকার বিষযটিও অনেকটা নির্ভর করবে। সরকার করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবেলা করছে, তার উপর বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের করোনা  ভাইরাস পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে সরকার নিজেদের সাফল্য জাহির করতে চাইলেও দলে দলে কূটনীতিকরা কেন ঢাকা ছাড়লো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা প্রয়োজন। দেশের ৬৮টি কারাগারে লক্ষাধিক মানুষ বন্দি ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশী বন্দির বসবাস হওয়ায় কারাগারগুলো করোনা বাইরাসের হটস্পটে পরিণত হওয়ার সম্ভবনা প্রবল। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বন্দির মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন কারারক্ষীসহ আরও কয়েকজন। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও হানা দিয়েছে করোনা। এসব খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই সরকারকে আবারও আহ্বান জানাই-দলীয় স্বার্থ কিংবা দোষারপের রাজনীতি নয়, করোনা মোকাবেলায় দরকার সমন্বীত পদক্ষেপ। প্রযোজন দেশে অর্গাধিকার ভিত্তিতে করোনা টেসে্টের সক্ষমতা বাড়ানো।
প্রিয় দেশবাসী,
দেশে-বিদেশে রয়েছে বিএনপি তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী কোটি কোটি সমর্থক শুভাকাঙ্খি। গত একযুগ ধরে সারাদেশে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মী ক্ষমতাসীন অপশক্তির গুম-খুন-অপহরণ, জেল-জুলুম, মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হয়েছে। মিথ্যা মামলার খরচ বহন করতে করতে হাজার হাজার পরিবার অর্থনীতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ধারাবাহিক সংগ্রামে অনেকেই হারিয়েছেন সহায় সম্পদ, তবে হারাননি মনোবল। নিজেরা নির্মম অমানবিকতার শিকার হয়েছেন, তবে হারাননি মানবতা। এর প্রমাণ এই করোনা সংকট কালে সারাদেশে বিএনপি নেতা-কর্মীরা, বিশেষ করে আমার তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সামথ্যের সবটুকু নিয়ে অসহায় জনগণের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের শখের মোবাইল, কিংবা মোটর সাইকেল বিক্রি করে অথবা স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে সেই অর্থ দিয়েও অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। সতর্কতা-সহায়তা-মানবিকতা এই চেতনায় সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দেশে অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন। সাধ্যমত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। অব্যাহত রেখেছেন মানবিক সহায়তা কর্মসূচি। বিএনপি দলীয়ভাবে মার্চ মাস থেকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে লিফলেট বিতরণ করা শুরু করেছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেও সারাদেশে দলীয় উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম মনিটর করার জন্য বিভাগ ও জেলা ভিত্তিক কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এপর্যন্ত বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা ০১ কোটির বেশী মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌছে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় সারা দেশে অনেক অসহায় গরীব কৃষক, বর্গাচাষীদের ক্ষেতের ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিয়েছেন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক, কৃষক দলের নেতা-কর্মীরা। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এর মতো পেশাজীবি সংগঠনগুলো হাসপাতালগুলোতে পিপিই, সার্জিকাল মাস্ক, তৈরী খাবারসহ অনলাইন চিকিৎসা পরামর্শ, হাত ধোয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে বেসিন স্থাপনসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। গত একযুগ ধরে ক্ষমতাসীন অপশক্তির রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনীতিক নিপীড়নের শিকার হবার পরও দেশের এই সংকটকালে আমার দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা যেভাবে সম্পূর্ণ নিজেদের আর্থিক সমর্থনে নিজ উদ্যোগে সারাদেশে বিপদাপন্ন মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এমন মানবতাবাদী নেতা-কর্মীদের নিয়ে আজ আমি সত্যি আনন্দিত, আজ আমি সত্যি গর্বিত। করোনা উপসর্গ নিয়ে কিংবা করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে যখন কেউ ভয়ে দাফন পর্যন্ত করতে চাননি এমন অন্তিম যাত্রাও আমার দলের নেতা-কর্মীরা সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে মৃত্যের দাফন কার্য সমাধা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, যে দলে এমন মানবিক সম্পন্ন নেতা-কর্মী রয়েছেন সেই দলটিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবেনা। অসহায় মানুষের সহযোগিতায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যেভাবে ভূমিকার রেখে চলেছেন এজন্য আমি বিএনপির পক্ষ থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ, আন্তরিক শুভেচ্ছা।


প্রিয় দেশবাসী,
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী যারা সাহসিকতার সঙ্গে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদেরকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, আন্তরিক অভিনন্দন। আগামী দিনগুলোতে তাদেরকে হয়তো আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তাদের এই সাহস ও এই ত্যাগ সারাবিশ্ব শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে এবং করবে। সবশেষে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যু বরণ করেছেন আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফেরাত কামনা করছি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন আল্লাহর দরবারে তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা-তিনি আমাদেরকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন

print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.