বুধবার , 23 অক্টোবর 2019
ব্রেকিং

বিশেষ মুহুর্তে টাইগারদের শক্তি যায় কোথায়?

tiger-deer

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

ক্রীড়া ডেস্কঃ শ্বাসরুদ্ধকর একেকটি মুহুর্তের জন্ম দেয় চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সাথে রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের যুদ্ধ। হাতের মুঠোয় ছিল রূপকথার জয়। নিজেদের ভুলে শেষ পর্যন্ত সেটি রূপ নিল হারের দুঃস্বপ্নে। ৩ বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারল না বাংলাদেশ!

যে দেশটির ৯৯.৯৯% ক্রিকেট ভক্ত তাদের চির-শত্রু পাকিস্তানকে পর্যন্ত সমর্থন করে যখন পাকিস্তান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলে, সেই ভারতকে হারানোর বিশেষ মুহুর্তে টাইগাররা কেন দুর্বল হয়ে যায়, কোথায় যায় তাদের শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা তা নিয়েই লাখ লাখ প্রশ্ন আর আন্দাজের শান্তনা উড়ে বেড়াচ্ছে অনলাইনের রাজপথ জুড়ে।

আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনের রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ১ রানে হারল বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ১৪৬ রান তুলেছিল ভারত। শেষ তিন বলে উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ থমকে গেল ১৪৫ রানে।

এটি সত্য, সাত ম্যাচ পর টস জয়ের স্বস্তি পাওয়া গিয়েছিল। আরও বড় স্বস্তি হয়ে এলো বোলারদের নিয়ন্ত্রিত শুরু। শরীরী ভাষায় চেনা বারুদ, ফিল্ডিং হলো দুর্দান্ত। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্ব ক্ষুরধার। সব মিলিয়ে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপকে বাংলাদেশ থামাল দেড়শর নিচেই। কিন্তু টাইগারদের ইনিংসের শেষে বিশেষ মুহূর্তে হেরে যাওয়ার ঘটনা নেহাৎ কম নয়।

ভারতকে চির-প্রতিদ্বন্দ্বী বলতেই হয় কারণ, তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত ও বিতর্কিত আইসিসি যা মতান্তরে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নামেই বেশী পরিচিতি পাচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে অনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে একটি দুর্বল টিম করে রাখতে সারা বছর তৎপর থাকে। তারা আমাদের সাথে শত্রুতা বজায় রাখতে চিরশত্রু  পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাতে, গলা মেলাতে ও বাংলাদেশের পরাজয়ে গলা ফাটিয়ে হৈ-চৈ করে উল্লাস করতে বেশ পারদর্শীতা দেখায়। অনেক ঘুরে ফিরে এই পরীক্ষা ও পরাজয়ের গ্লানি শোধ করার মুহুর্তগুলো আসে। অথচ ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে সেই বিশেষ মুহূর্তে কি এমন লজ্জা আর দুর্বলতায় হেরে ফিরতে হয় আর এমন কতদিন চলবে তা ক্রিকেটপ্রেমীদের অজানা।

অবশ্য সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ১৮ রানের ছোট্ট কিন্তু কার্যকর জুটি গড়ে ফিরেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। রবিন্দ্র জাদেজার বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৫ বলে ৬ রান করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। নিজের শেষ ওভারে আঘাত হানেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সাকিব আল হাসানকে (১৫ বলে ২২) ফেরান এই অফ স্পিনার। তার দারুণ এক ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দেন সাকিব। দলকে চাপে ফেলে ফিরে যান সৌম্য সরকার (২১ বলে ২১ রান)। আশিস নেহরার ফুল টস বলে লং অনে সহজ ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টেনে প্রথম জয়ের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ ভারতকে আটকে দেয় ১৪৬ রানে। শুরু থেকেই বারবার বোলার বদলে ভারতীয় ওপেনারদের থিতু হতে দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন বোলররাও। প্রথম ৫ ওভারে উইকেট না এলেও রোহিত ও ধাওয়ানের মতো দুই আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান তুলতে পেরেছেন মাত্র ২৭ রান। শেষের আগের ওভারে অবশ্য ৩টি চার গুণেছেন আল আমিন। শুধু শেষ ওভারে ধোনিকে বড় কিছু করতে দেননি মুস্তাফিজ।

কথায় কথায় এখন চলছে শান্তনার কথা, হারিজিতি বাংলাদেশ। পরাজয়টি সম্মানের না হয়ে আরো তিক্ততার হতে পারত অতীতের মত। ভবিষ্যতের বিশেষ মুহুর্তের কথা মাথায় রেখে টাইগারদের আরো কঠিন প্রতীজ্ঞা নিয়ে অনুশীলন করতে হবে। পাকিস্তানকে হারানোর সময় আমাদের আবেগ-বিবেক মাঠেই উপস্থিত থাকে, অনুপস্থিত থাকে শুধু ভারতের বিরুদ্ধে শেষের এই বিশেষ মুহুর্তেই? এমনটা আশা করে না কোনো সত্যিকার বাংলাদেশী।

print

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.